এজমা থেকে মুক্তির উপায় - এজমার লক্ষণ কি কি
পরিবর্তিত আবহাওয়ার কারণে আমাদের মধ্যে নানা ধরণের রোগের দেখা দেয়। আর বায়ুবাহিত এসকল রোগের মধ্যে এজমা বা হাপানির সমস্যা বেশী দেখায় দেয়। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় শীতকালে এজমার সমস্যা বেশী দেখা দেয়। তাই আমাদের শীতকালে এজমা প্রতিরোধে বিশেষভাবে সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে।
এই আর্টিকেলটিতে এজমা র লক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। আর্টিকেলটিতে এজমা কি, এজমা কত প্রকার ও কি কি, এজমার লক্ষণ কি কি তা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সেইসাথে এজমা থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। তাই এজমা কি ভাল হয় কি না তা জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
এজমা কি
এজমা হলো শ্বাসযন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদী একটি রোগ, যা আমাদের শ্বাসনালীকে স্বাভাবিকের তুলনায় অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সংকুচিত করে ফেলে। এজমার ফলে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হয়। সাধারণত ধুলা-বালি, ধোঁয়া, ঠান্ডা আবহাওয়া, পরাগ, এবং পশমের মতো অ্যালার্জেন এজমার প্রকোপ বৃদ্ধি করে থাকে।
এজমা কত প্রকার ও কি কি
শ্বাসযন্ত্রের প্রদাহজনিত একটি সমস্যা হলো এজমা। এজমাকে হাপানিও বলা হয়ে থাকে। এজমা সাধারণত দুই ধরণের হয়ে থাকে, যথা- অ্যালার্জিক এজমা ও নন-অ্যালার্জিক এজমা। নিচে এই দুই ধরণের এজমা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ
১. অ্যালার্জিক এজমাঃ যখন কোনো প্রকারের অ্যালার্জিক পদার্থ যেমন- ধুলা-বালি, ধোঁয়া, ফুলের পরাগ রেণু, ফাংগাস কিংবা রাসায়ণিক কোনো গন্ধের কারণে এজমার প্রকোপ দেখা দেয় তখন তাকে অ্যালার্জিক এজমা বলা হয়ে। এই ধরণের এজমা ছোট বেলা থেকেই শুরু হতে পারে এবং এর সাথে অন্যান্য অ্যালার্জির উপসর্গ যেমন- হাচি,নাক দিয়ে পানি পড়া ইত্যাদি সংযুক্ত থাকতে পারে।
২. নন-অ্যালার্জিক এজমাঃ এজমার এই ধরণটি কোনো প্রকারের অ্যালার্জিক পদার্থ দ্বারা উদ্দীপ্ত হয় না। এটি সাধারণত আবহাওয়ার পরিবর্তন, ঠান্ডা বাতাস, ধোঁয়া, গন্ধ, মানসিক চাপ বা সংক্রমণের কারণে হতে পারে। এজমার এই ধরণটিকে অ্যান্টি-অ্যালার্জিক বা ইনফ্ল্যামেটরি এজমাও বলা হয়ে থাকে। নন-অ্যালার্জিক এজমা সাধারণত প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়ার পর অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা, যেমন ব্রঙ্কাইটিস বা ফুসফুসের সংক্রমণের দ্বারা প্রভাবিত ও সম্পর্কিত হয়ে থাকে।
এছাড়াও আরও কিছু বিশেষ ধরণের এজমা রয়েছে, সেগুলো হলোঃ
- এক্সারসাইজ-ইনডিউসড এজমা
- কফ-প্রেডোমিন্যান্ট এজমা
- অকুপেশনাল এজমা
এজমার লক্ষণ কি কি
এজমা হলো শ্বাসযন্ত্রের প্রদাহজনিত একটি সমস্যা যা স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের কার্যক্রমকে ব্যাহত করে থাকে। এটি আমাদের শ্বাসনালীকে অত্যন্ত সংবেদনশীল করে তোলে। এজমার লক্ষণ গুলো অনেক সময় বিভিন্ন পরিবেশগত কারণ বা উদ্দীপকের সংস্পর্শে এলে বেশী হয়ে ওঠে। সঠিক ভাবে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য এজমার লক্ষণগুলোকে সঠিকভাবে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এজমার প্রধান লক্ষণগুলো নিম্নরূপ:
- ১. শ্বাসকষ্টঃ শ্বাস নিতে বা ছাড়তে কষ্ট হয়, বিশেষত রাতের বেলা বা ভোরে এই সমস্যা বেশি দেখা দিতে পারে।
- ২. শ্বাসকষ্টঃ শ্বাস নিতে বা ছাড়তে কষ্ট হয়, বিশেষত রাতের বেলা বা ভোরে এই সমস্যা বেশি দেখা দিতে পারে।
- ৩. সাঁই সাঁই শব্দঃ শ্বাস নেওয়ার সময় বা শ্বাস ছাড়ার সময় বুক থেকে সাঁই সাঁই বা শীষের মতো শব্দ শোনা যেতে পারে। এটি এজমার অন্যতম পরিচিত লক্ষণ।
- ৪. কাশিঃ বারবার কাশি হয়, বিশেষত রাতের বেলা বা ঠান্ডা পরিবেশে কাশি বাড়তে পারে।
- ৫. শ্বাস নিতে অস্বস্তিঃ অনেক সময় হঠাৎ শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়, বিশেষত শারীরিক পরিশ্রম বা ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে এলে এই সমস্যা দেখা যায়।
- ৬. অতিরিক্ত ক্লান্তিঃ শ্বাসকষ্ট ও কাশির কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, যা শরীরে ক্লান্তি নিয়ে আসে।
এছাড়া পরিবেশগত পরিবর্তন, ঠান্ডা আবহাওয়া, ধুলা বা ধোঁয়ার সংস্পর্শে এলে এজমার লক্ষণগুলো আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে। এ লক্ষণগুলো এজমার ধরণ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে ভিন্ন হতে পারে।
এজমা থেকে মুক্তির উপায়
শ্বাসযন্ত্রের একটি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা হলো এজমা। এটি আমাদের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের কার্যপ্রণালীকে অনেকাংশে প্রভাবিত করে থাকে। এটি আমাদের শ্বাসনালীকে অত্যন্ত সংবেদনশীল করে তোলে। যার ফলে আমাদের শ্বাস নিতে অনেকে কষ্ট হয়। আপনি যদি এজমা থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে জানতে চান তাহলে আপনার এটা জেনে রাখা ভালো হবে যে এজমাকে সম্পূর্ণভাবে নিরাময় করা সম্ভব না।
আরও পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় খেজুর খাওয়ার ১০টি উপকারিতা
তবে এজমা সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব না হলেও লক্ষণগুলো নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব। এজমা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সঠিক চিকিৎসা, নিয়মিত যত্ন, এবং জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এজমা থেকে মুক্তির উপায় গুলো নিচে উল্লেখ করা হলোঃ
- এলার্জেন থেকে দূরে থাকা
- নিয়মিত ইনহেলার ও ওষুধ ব্যবহার
- শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ও শরীরচর্চা
- মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত ঘুম
- ঠান্ডা আবহাওয়া ও সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা
- ঘরের পরিবেশের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ
- সঠিক খাবার গ্রহণ
- ধূমপান পরিহার
- নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ
- অ্যালার্জি টেস্ট করানো
এজমা কি ভাল হয়
এজমা একটি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং মরণব্যাধি রোগ। এটি আমাদের শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যাঘাত ঘটায়। প্রিয় পাঠক আপনি নিশ্চয়ই এজমা ভাল হয় কি না তা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন।
প্রিয় পাঠক, এজমাকে চিরতরে প্রতিকার করা সম্ভব না। তবে এর বিভিন্ন ধরণের উপসর্গকে সঠিকভাবে জীবনযাপন করার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
লেখকের মন্তব্যঃ এজমার লক্ষণ কি কি
সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য সুপরিকল্পিত নিয়মে জীবন কার্য পরিচালনা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশৃঙ্খল ভাবে জীবনযাপন করলে পরবর্তীতে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরণের রোগ বাসা বাধে। এজমাকে চিরতরে প্রতিকার করা না গেলেও এর উপসর্গ গুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে এটাকে অনেকাংশে কমিয়ে রাখা যায়।
আশা করছি আর্টিকেলটি পড়ে আপনি এজমা কত প্রকার ও কি কি, এজমার লক্ষণ কি কি তা সম্পর্কে বিস্তারিতভাব জানতে পেরেছেন। সেইসাথে এজমা কি ভাল হয় বা এজমা থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় সম্পর্কেও জানতে পেরেছেন। আর্টিকেলটি পড়ে উপকৃত হলে আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন। আর্টিকেল সম্পর্কিত কোনো তথ্য বা মতামত জানতে বা জানাতে নিচে কমেন্ট করুন অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ।
আমাদের ওয়য়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। আপনার করা প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url